Express with Line Value Space
- Description
- Curriculum
- Reviews
এই সাতটি দৃশ্যাঙ্গের মধ্যে প্রথম চারটি – রেখা (Line), শুক্লতা (Value), ক্ষেত্র (Space), বর্ণ (Colour) – এইগুলি মৌলিক দৃশ্যাঙ্গ। বাকি তিনটি – আকার (Shape), আকৃতি (Form), এবং পৃষ্ঠরূপ (Texture) প্রথম চারটি থেকেই তৈরি হয়। এই দৃশ্যাঙ্গগুলির সংস্থান (Composition) এবং তাদের অন্তর্বর্তী সম্পর্ক ছবির ব্যঞ্জনা প্রকাশের মূল উপাদান। মৌলিক চারটি দৃশ্যাঙ্গের মধ্যে বর্ণ বা রঙ একেবারেই অনন্য একটি উপাদান। রঙের আলোচনা তাই আলাদা ভাবেই করা দরকার। বাকি তিনটি মৌলিক দৃশ্যাঙ্গ নিয়ে এই প্রোজেক্ট।
১। রেখা (Line)
রেখা বা লাইন সাত দৃশ্যাঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রৈখিক বিন্যাসই ছবির গতি, সম্পর্ক এবং ব্যাঞ্জনা তিনটি ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করে। ফলতঃ ফটোগ্রাফির যেকোন স্তরেই রেখার ওপর কর্তৃত্ব অর্জন না করতে পারলে ছবির মাধ্যমে কথোপকথন কঠিন হয়ে পড়ে। ছবির ইতিহাসে আধুনিকতার প্রথম পর্যায় থেকেই লাইনের ব্যবহার ছবির মেরুদণ্ড হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
লাইনের বিভিন্নরকম বিভাগ ও কাজ আমরা শিখবো। তার মধ্যেও সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বোধহয় কৌণিক রেখা। কৌণিক রেখার বিন্যাস ছবিতে গতি এবং গভীরতাক্ষেত্র (Depth Space) নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কৌণিক রেখার দুটি মূল বিন্যাস হলো – Baroque এবং Sinister। দুটি বিন্যাসই আধুনিক ছবিতে বহুল ব্যবহৃত হয়েছে।
২। শুক্লতা বা উজ্বলতা (Value)
ফটোগ্রাফিতে আমরা যাকে এক্সপোজার বলি তা আসলে শুক্লতা নিয়ন্ত্রণের টেকনিক্যাল পদ্ধতি। এক্সপোজারের মাধ্যমে আমরা কেবল আলো কতটা ক্যামেরা ঢুকবে সেটা যেমন নিয়ন্ত্রণ করি, তার সঙ্গে সঙ্গে যেটা খেয়াল রাখতে হয় সেটা হল আলোর এই পরিমাণ ছবিতে কী ধরণের আলোছায়া তৈরি করবে। এই যে ছবির আলোছায়া এইটি হলো শুক্লতা বিন্যাস (Value Distribution)। এক্সপোজার আসলে শুক্লতা বিন্যাসের প্রাথমিক ধাপ।
এক্সপোজারের মাধ্যমে Background Depth, Motion Sharpness ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায় অ্যাপারচার বা শাটার স্পীড এর মাধ্যমে। তার সঙ্গে সঙ্গে শুক্লতা বিন্যাসও নির্ধারণ করা হয়। এইটি আমরা Histogram দিয়ে সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারি। শুক্লতার বিভিন্নধরণের বিন্যাস ফটোগ্রাফের বাহ্যিক রূপ নির্ধারণ করে তো বটেই, এর বাইরেও ছবির ভাষা নিয়ন্ত্রণ করে, ভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
৩। ক্ষেত্র (Space)
ছবির জগতে ক্ষেত্র বা Space অনেকটা অন্তর্লীনভাবে কাজ করে। অর্থাৎ দর্শকের চোখের এই দৃশ্যাঙ্গের অনুভব প্রাথমিকভাবে রেখা, শুক্লতা বা বর্ণের মত প্রবলভাবে ধরা পড়ে না। কিন্তু মৌলিক দৃশ্যাঙ্গগুলির মধ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যাঙ্গ। ক্ষেত্র অনেকজায়গাতেই দৃশ্যমান হওয়ার চেয়ে অনুভবে বেশি ধরা পড়ে। তাই এই দৃশ্যাঙ্গের রেওয়াজও অন্যগুলির চেয়ে একটু কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্ষেত্র মূলতঃ Surface Space বা পৃষ্ঠক্ষেত্র এবং Perspective/Depth Space বা গভীরতা ক্ষেত্র – এই দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে পৃষ্ঠক্ষেত্র নিয়ে রেওয়াজ খানিক সহজ। বহুপ্রচলিত এবং সর্বজনপ্রিয় Rule of Third একটি পৃষ্ঠক্ষত্র বিন্যাস (Space Distribution)। গভীরতার দিকেও এরকম বিভিন্ন বিন্যাস আছে। রেওয়াজের সময় পৃষ্ঠক্ষেত্র এবং গভীরতাক্ষেত্র উভয়দিকেই অভ্যাস প্রয়োজনীয়।
